বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ০৪:৪৮ পূর্বাহ্ন

News Headline :
রমজানের পবিত্র আবহে জামালপুর শহর বিএনপির ব্যতিক্রমী ইফতার মাহফিল- মাদারগঞ্জে বসতবাড়িতে সশস্ত্র হামলার অভিযোগ: স্বর্ণালঙ্কার, নগদ অর্থ ও গরু লুট- জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জামালপুর জেলা মৎস্যজীবী দলের উদ্যোগে এক বিশাল বর্ণাঢ্য র‍্যালি অনুষ্ঠিত- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রীর জামালপুর সফর- বানিয়াবাজার খাল দখল ও দূষণ: পরিবেশ বিপর্যয় ও করণীয় নিয়ে এফজিডি অনুষ্ঠিত- জামালপুরে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে: ওয়ারেছ আলী মামুন- ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ উপলক্ষে জামালপুরে নির্বাচনী মহড়া অনুষ্ঠিত-  দৈনিক সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন’ এর ১৩তম বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত- রমজান সামনে রেখে জামালপুরে ৫০০ পরিবারে দোস্ত এইডের ফ্যামিলি ফুড প্যাকেট বিতরণ- মাদারগঞ্জে মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে ইউপি সচিব তোজাম্মেল হক নিহত- 

দেশব্যাপী সাংবাদিক হত্যা ও হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক সাংবাদিক সংগঠন ই-প্রেস ক্লাবের নিন্দা-

দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক | তাং ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ খ্রী.

ঢাকা ও খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিকদের ওপর সাম্প্রতিক হামলা এবং খুলনায় একজন সাংবাদিককে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় আন্তর্জাতিক সাংবাদিক সংগঠন ই-প্রেস ক্লাব গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। এসব ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে  আন্তর্জাতিক সাংবাদিক সংগঠন ই-প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সৈয়দ ফজলুল কবীর বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে সাংবাদিকদের ওপর ধারাবাহিকভাবে হামলার ঘটনা এবং খুলনায় সাংবাদিক ওয়াহিদুজ্জামান বুলুর নির্মম হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত মর্মন্তুদ ও উদ্বেগজনক। এটি কেবল একজন সাংবাদিকের ওপর নয়, বরং দেশের গণমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর ভয়াবহ আঘাত।

গণতন্ত্রের অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে সাংবাদিকতা রাষ্ট্র ও সমাজের মধ্যে তথ্যপ্রবাহের ভারসাম্য রক্ষা করে। তাই সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম দায়িত্ব। কিন্তু সাম্প্রতিক হামলা-হত্যার ঘটনা প্রমাণ করে, দেশে সাংবাদিকরা মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।

সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি—দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের জন্য একটি নিরাপদ ও সহায়ক কর্মপরিবেশ গড়ে তোলা জরুরি। এ বিষয়ে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোকেও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।

যদি সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা রক্ষায় দায়বদ্ধতা প্রদর্শন না করা হয়, তবে গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে। আমি দেশপ্রেমিক সকল নাগরিককে একযোগে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।”

এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সাংবাদিক সংগঠন ই-প্রেস ক্লাবের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য ও ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রধান, সাংবাদিক ডা. মো. শফিকুল ইসলাম আজাদ খান বলেন,
“সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হত্যাকাণ্ড রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক শৃঙ্খলার জন্য অশনিসংকেত। একজন সাংবাদিকের জীবন ঝুঁকিতে থাকলে তথ্যপ্রবাহ ব্যাহত হয়, আর তা সরাসরি গণতান্ত্রিক কাঠামোকে দুর্বল করে।

সাংবাদিকরা নিরপেক্ষভাবে সংবাদ পরিবেশন করে জনস্বার্থ রক্ষা করেন। তাঁদের ওপর হামলা মানে, সত্য ও তথ্যের কণ্ঠরোধ করা। একের পর এক সহিংস ঘটনায় সাংবাদিকদের শারীরিক, মানসিক ও পেশাগত ক্ষতি হচ্ছে, যা মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল।

আমি সরকারের কাছে জোর দাবি জানাই—হামলাকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক এবং সাংবাদিকদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা হোক। একইসঙ্গে গণমাধ্যম মালিকদেরও তাঁদের পেশাদার কর্মীদের সুরক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।”

গত এক সপ্তাহে সংঘটিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ঘটনার মধ্যে রয়েছে:

৩১ আগস্ট, খুলনায় স্থানীয় সাংবাদিক ওয়াহিদুজ্জামান বুলুকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।
২৭ আগস্ট, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে পুলিশের লাঠিচার্জে আহত হন বাংলা ভিশনের কেফায়েত শাকিল, দ্য নিউ নেশনের নোমান মোশাররফ ও সৈয়দ শিমুল পারভেজ, সপ্তমী মণ্ডল ঋতু এবং খোলা বাজারের রোজিনা বেগম।
২৯ আগস্ট, কাকরাইলে গণঅধিকার পরিষদের কর্মসূচির সময় সংঘর্ষে আহত হন বাংলাদেশ প্রতিদিনের নাইমুর রহমান দুর্জয়।

৩০ আগস্ট, মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংক ভবনের পেছনে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন ডিবিসি নিউজের রেদওয়ানুল হক এবং দৈনিক কালবেলার এ জেড ভূঁইয়া আনাস।

আন্তর্জাতিক সাংবাদিক সংগঠন ই-প্রেস ক্লাবের বিবৃতিতে বলা হয়, এ ধরনের ঘটনা সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা ও নিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে। দ্রুত বিচার ও দায়ীদের শাস্তি না হলে সাংবাদিকদের মধ্যে ভীতি ও অনিরাপত্তা আরও বাড়বে, যা গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সংগঠনটি আহত সাংবাদিকদের সুচিকিৎসা ও উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দায়িত্বশীল ও স্বাধীন গণমাধ্যম ছাড়া গণতন্ত্র সুদৃঢ় হতে পারে না। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনে অবহেলা চলতে থাকলে দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ভয়াবহ সংকটে পড়বে।

আন্তর্জাতিক সাংবাদিক সংগঠন ই-প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংগঠনটি বিশ্বব্যাপী সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও পেশাগত অধিকার রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ। বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনা শুধুমাত্র গণমাধ্যমের ওপর আঘাত নয়—এটি একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌল ভিত্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

সংগঠনটি মনে করে, সাংবাদিকদের ওপর যেকোনো হামলা বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্র ও মানবাধিকার রক্ষার চেষ্টার পরিপন্থী। এ প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক সাংবাদিক সংগঠন ই-প্রেস ক্লাব সরকারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, মানবাধিকার সংস্থা ও সংবাদমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে সম্মিলিতভাবে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।



পুরানো খবর

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১৩১৫
১৬১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১