বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ০৪:৪৪ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৪ জানুয়ারি ২০২৬
“নদীতে প্রাণের কান্না: বৈশ্বিক উষ্ণতার বিরুদ্ধে দাঁড়াও”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, নদী অবনতি ও জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর উন্নয়ন পরিকল্পনার বিরুদ্ধে এক ব্যতিক্রমী প্রতিবাদী অভিযাত্রা শুরু করেছেন পরিব্রাজক মাসফিকুল হাসান টনি। কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার সীমান্তবর্তী চর ইটালুকান্দা থেকে ভোলা জেলার চরফ্যাশনের চর কুকরি-মুকরি পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র–মেঘনা নদীপথ ধরে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ক্রস-কান্ট্রি হাইকিং শুধুই হাঁটা নয়—এটি নদী, প্রকৃতি ও মানুষের পক্ষে এক জোরালো প্রতিবাদ।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকাল ৭টায় রৌমারীর চর ইটালুকান্দা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযানের সূচনা হয়।
আন্তর্জাতিক অভিযাত্রীদের সংহতি এই অভিযানে মাসফিকুল হাসান টনির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে যুক্ত হয়েছেন—বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালে প্রায় ১,৩০০ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে এভারেস্ট জয়ী পর্বতারোহী ইকরামুল হাসান শাকিল এবং সাহসী সাঁতারু শাহনাজ। প্রকৃতি, নদী ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই তাঁদের এই অংশগ্রহণ।

পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক নাগরিক সংগঠন ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)’ এবং ‘বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাব’ –এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অভিযানের শিরোনাম— ‘নদীতে প্রাণের কান্না: বৈশ্বিক উষ্ণতার বিরুদ্ধে দাঁড়াও’।
আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের বিরূপ প্রভাবে বাংলাদেশের নদী-ব্যবস্থা ও অববাহিকার জনজীবন আজ চরম সংকটে। একদিকে নদ-নদী রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগের অভাব, অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের মূল কারক জীবাশ্ম জ্বালানি ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকে প্রাধান্য দেওয়া জাতীয় পরিকল্পনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোই এই পদযাত্রার মূল লক্ষ্য।
‘নদীর অবনতি, জলবায়ু পরিবর্তন ও জীবাশ্ম জ্বালানি বিস্তারের প্রতিবাদ’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে পুরো পথ অতিক্রম করবেন অভিযাত্রী।

সকালে চর ইটালুকান্দায় অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা ও সংহতি জানাতে উপস্থিত ছিলেন—
ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)-এর সদস্য সচিব শরীফ জামিল, এভারেস্ট বিজয়ী ও বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাবের সভাপতি ইকরামুল হাসান শাকিল, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী, ধরা জামালপুরের আহ্বায়ক মো. মাহবুবুর রহমান মহব্বত, আন্তর্জাতিক সাংবাদিক সংগঠন ই-প্রেস ক্লাব–এর কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য ও ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রধান এবং পর্যটন ভিত্তিক গণমাধ্যম “বাংলাদেশ ট্যুরিজম নিউজ এজেন্সি” র নির্বাহী সম্পাদক সাংবাদিক ডা. মো. শফিকুল ইসলাম আজাদ খান, গণমাধ্যম ও মানবাধিকার কর্মী এমদাদুল হক মিলন, ব্রহ্মপুত্র ভাঙনরোধ ও সুরক্ষা কমিটির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন মহির, পরিবেশকর্মী মো. শফিকুল ইসলামসহ আরও অনেকে।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ধরা জামালপুরের সদস্য সচিব মোহাম্মদ এনামুল হক।
নদীমাতৃক বাংলাদেশের অস্তিত্ব আজ হুমকির মুখে—উজানের পানি আগ্রাসন, অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনা ও জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর উন্নয়ন আমাদের ভবিষ্যৎকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মাসফিকুল হাসান টনির এই ৬০০ কিলোমিটারের পদযাত্রা নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ ও সাধারণ মানুষকে সচেতন করার এক সাহসী উদ্যোগ।
আয়োজকদের মতে, জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে এই অভিযান প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলগুলোর মনোজগতে পরিবেশ বিপর্যয় ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা জোরালোভাবে তুলে ধরবে।