বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ০৪:৪৮ পূর্বাহ্ন

News Headline :
রমজানের পবিত্র আবহে জামালপুর শহর বিএনপির ব্যতিক্রমী ইফতার মাহফিল- মাদারগঞ্জে বসতবাড়িতে সশস্ত্র হামলার অভিযোগ: স্বর্ণালঙ্কার, নগদ অর্থ ও গরু লুট- জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জামালপুর জেলা মৎস্যজীবী দলের উদ্যোগে এক বিশাল বর্ণাঢ্য র‍্যালি অনুষ্ঠিত- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রীর জামালপুর সফর- বানিয়াবাজার খাল দখল ও দূষণ: পরিবেশ বিপর্যয় ও করণীয় নিয়ে এফজিডি অনুষ্ঠিত- জামালপুরে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে: ওয়ারেছ আলী মামুন- ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ উপলক্ষে জামালপুরে নির্বাচনী মহড়া অনুষ্ঠিত-  দৈনিক সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন’ এর ১৩তম বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত- রমজান সামনে রেখে জামালপুরে ৫০০ পরিবারে দোস্ত এইডের ফ্যামিলি ফুড প্যাকেট বিতরণ- মাদারগঞ্জে মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে ইউপি সচিব তোজাম্মেল হক নিহত- 

সিগারেটের অতিরিক্ত মূল্য আদায় ও ভোক্তা শোষণ: সরকারের নজরদারি জরুরি-

ডেস্ক রিপোর্টঃ তাং ৫ জানুয়ারী ২০২৬ খ্রী. 

সিগারেট কোম্পানি ও খুচরা বিক্রেতারা সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যের (এমআরপি) চেয়ে বেশি দামে তামাকজাত পণ্য বিক্রি করছে, যা এখন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—বরং নিয়মিত ও সুসংগঠিত অনিয়মে পরিণত হয়েছে। এর ফলে একদিকে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ ভোক্তারা প্রতিনিয়ত আর্থিকভাবে শোষিত হচ্ছেন। এই বাস্তবতায় কঠোর আইন প্রণয়ন ও তার কার্যকর প্রয়োগ এখন সময়ের দাবি।

সরকার প্রতি বছর তামাকজাত পণ্যের ওপর কর ও মূল্য কাঠামো নির্ধারণ করে—একদিকে রাজস্ব আদায়, অন্যদিকে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্য সামনে রেখে। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। বাজারে এসব পণ্য প্রায়ই নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। কোথাও খুচরা বিক্রেতারা নিজেরাই দাম বাড়িয়ে নিচ্ছেন, আবার কোথাও তামাক কোম্পানির সরবরাহ ও বিপণন কৌশলের কারণে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে যে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে, তা সরকারের কোষাগারে জমা না হয়ে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অবৈধ মুনাফায় পরিণত হচ্ছে।

নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ভোক্তারা প্রায়শই নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে তামাক কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা জানেন যে দাম বেশি নেওয়া হচ্ছে, কিন্তু অভিযোগ জানানোর কার্যকর ব্যবস্থা বা বাজারে দৃশ্যমান তদারকি না থাকায় নীরব থাকতে বাধ্য হন। এতে ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে, আইনের প্রতি মানুষের আস্থা দুর্বল হয়ে পড়ছে।

সম্প্রতি দেখা গেছে, কিছু সিগারেট কোম্পানির প্রতিনিধি বা তাদের নিয়োজিত লোকজন বিভিন্ন দোকানে বসে ভোক্তাদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করছে। অনেক সময় তাৎক্ষণিক এসএমএস ও ওটিপি (OTP) সংগ্রহ করা হয়। ভোক্তারা বিষয়টির প্রকৃত উদ্দেশ্য না বুঝেই ওটিপি শেয়ার করছেন। এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ মোবাইল নম্বর ও ওটিপির মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য, ডিজিটাল পরিচয় বা অনলাইন সেবায় অননুমোদিত প্রবেশের আশঙ্কা তৈরি হয়। ফলে ভোক্তা শোষণ আর কেবল অর্থনৈতিক নয়, ডিজিটাল নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও বিস্তৃত হচ্ছে।

রাজস্বের দিক থেকেও অবস্থা উদ্বেগজনক। তামাক খাত থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব দেশের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত। কিন্তু মূল্য নিয়ন্ত্রণ ও বাজার নজরদারিতে ব্যর্থতার কারণে সেই রাজস্বের বড় অংশ সরকারের হাতে না এসে অসাধু ব্যবসায়ীদের পকেটে চলে যাচ্ছে। এটি কেবল অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়, বরং সুশাসনের জন্যও গুরুতর চ্যালেঞ্জ।

সরকারের কঠোর নজরদারি এখন সময়ের দাবি। সর্বোচ্চ বিক্রয় মূল্যের বেশি দামে বিক্রি রোধ করা, অনিয়ন্ত্রিত বিপণন ও ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ বন্ধ করা, ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম জোরদার করা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। নিয়মিত বাজার তদারকি ও ভোক্তা অভিযোগ ব্যবস্থার কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে।

তামাক কোম্পানি ও বিক্রেতাদের অনিয়ন্ত্রিত মূল্য আদায় এবং ঝুঁকিপূর্ণ বিপণন কৌশল বন্ধ করা শুধু ভোক্তা সুরক্ষার নয়; এটি রাষ্ট্রীয় রাজস্ব রক্ষা, ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। জনস্বার্থে সরকারকে এখনই দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে—কথার নয়, কার্যকর আইন, কঠোর প্রয়োগ ও সক্রিয় নজরদারির মাধ্যমে।

সতর্কীকরণ: তামাক ব্যবহার স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। সিগারেট, বিড়ি ও অন্যান্য তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার হৃদরোগ, ফুসফুসের রোগ, ক্যানসারসহ প্রাণঘাতী অসুস্থতার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়ায়। তামাকের কোনো মাত্রাই নিরাপদ নয়। নিজের ও পরিবারের সুস্বাস্থ্যের জন্য তামাক পরিহার করুন এবং তামাকমুক্ত জীবনধারায় অভ্যস্ত হোন।



পুরানো খবর

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১৩১৫
১৬১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১