শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:২৮ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক | তাং ২৪ এপ্রিল ২০২৬ খ্রী.
মাদকের করাল গ্রাস থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা এবং মাদক প্রতিরোধে যুব সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জামালপুরে এক গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল ২০২৬) সকাল ১০টায় জামালপুর সদর উপজেলা পরিষদ হল রুমে ‘মাদক প্রতিরোধ ও যুবকদের সম্পৃক্ততা’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে এডাব (ADAB)-এর জামালপুর জেলা শাখা।

অতিথি ও সঞ্চালনা:
এডাব জামালপুর জেলা শাখার সভাপতি মোহাম্মদ এনামুল হক-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজনীন আক্তার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. শাহাদৎ হোসেন। সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন জামালপুর হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডা. মো. মনিরুজ্জামান খান। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ (কি-নোট প্রেজেন্টেশন) উপস্থাপন করেন এডাব কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগীয় সমন্বয়কারী নূরুল আমিন স্বপন।

উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ:
সেমিনারে আরও অংশ নেন, সিনিয়র সাংবাদিক, কম্বাইন্ড হিউম্যান রাইটস্ ওয়ার্ল্ড জামালপুর জেলা শাখার সভাপতি এমএইচ মজনু মোল্লা, শাহাবুদ্দিন মেমোরিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের কোঅর্ডিনেটর ও সিনিয়র শিক্ষক, মানসী গোস্বামী, সিনিয়র সাংবাদিক শাহ আলী বাচ্চু, সমাজ, পরিবেশ, মানবাধিকার ও গণমাধ্যম কর্মী এবং প্রেস হেলথ কেয়ার লিমিটেড (গভ. রেজিস্টার্ড) এর নির্বাহী পরিচালক ডা. মোঃ শফিকুল ইসলাম আজাদ খান, গণমাধ্যম ও মানবাধিকার কর্মী এবং সূর্য তোরণ সমাজ সেবা’র নির্বাহী পরিচালক মোঃ খোরশেদ আলম, সাংবাদিক এমদাদুল হক, তথ্য বিষয়ক সম্পাদক সিএইচআরডব্লিউ জামালপুর জেলা শাখা, রফিকুল ইসলাম, সভাপতি, প্রশিপস, ছাইদা বেগম শ্যামা, সভানেত্রী, জিগাতলা অপরূপা মহিলা উন্নয়ন সমিতি, শামিমা বেগম রুবি, সভানেত্রী, প্রত্যাশা মহিলা উন্নয়ন সমিতি, শামীমা খান, নির্বাহী পরিচালক, তরঙ্গ মহিলা উন্নয়ন সংস্থা, মোঃ সামিউল ইসলাম, নির্বাহী পরিচালক, মুক্ত জীবন সংস্থা, মোস্তাকিমা, নির্বাহী পরিচালক, রশিদপুর বটতলা সিবিও, বিবি হাওয়া, সভানেত্রী, মহিলা কৃষি সমিতি, এছড়াও স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং শাহাবুদ্দিন মেমোরিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৯ম/১০ম শ্রেণীর ছাত্র ছাত্রীরাও উপস্থিত ছিলেন।
সেমিনারের মূল আলোচনা- সংকট ও বাস্তবতা: সেমিনারে বক্তারা মাদককে একটি ভয়াবহ ‘জাতীয় সংকট’ হিসেবে অভিহিত করেন। আলোচনায় উঠে আসে যে, বিশ্বজুড়ে প্রায় ২০০ মিলিয়ন মাদকাসক্তের মধ্যে একটি বড় অংশই তরুণ। বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান, বেকারত্ব এবং সামাজিক সচেতনতার অভাব এই সমস্যাকে আরও প্রকট করে তুলছে। বক্তারা সতর্ক করে বলেন, মাদক কেবল একজন ব্যক্তিকে নয়, বরং একটি পরিবার ও পুরো রাষ্ট্রকে পঙ্গু করে দিচ্ছে।
মাদকের ভয়াবহতা ও প্রভাব-
সেমিনারে মাদকের ধ্বংসাত্মক দিকগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়- শারীরিক ও মানসিক বিপর্যয়: মাদক সেবনে লিভার, কিডনি ও ফুসফুসের কার্যকারিতা হারানোসহ ক্যান্সার ও হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। এছাড়া আসক্ত ব্যক্তিরা স্মৃতিভ্রংশ ও চরম বিষণ্ণতায় ভোগেন।
পারিবারিক ও সামাজিক অস্থিরতা:
মাদকের কারণে পারিবারিক কলহ ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়। সমাজে চুরি, ছিনতাই ও অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধির অন্যতম মূল কারণ হিসেবে মাদককে চিহ্নিত করা হয়।

প্রতিরোধে করণীয় ও সুপারিশমালা-
মাদক নির্মূলে সেমিনারে বেশ কিছু কার্যকর পদক্ষেপের সুপারিশ করা হয়: ১. সচেতনতা: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত মাদকবিরোধী প্রচারণা চালানো। ২. আইনী ব্যবস্থা: মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা। ৩. পারিবারিক ভূমিকা: সন্তানদের প্রতি পরিবারের নজরদারি ও নৈতিক শিক্ষা বৃদ্ধি করা। ৪. বিকল্প কর্মসংস্থান: যুব সমাজকে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও সামাজিক কাজে বেশি করে সম্পৃক্ত করা।
প্রধান অতিথির বক্তব্য:
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজনীন আক্তার বলেন, “তরুণরাই আমাদের আগামীর শক্তি। তাদের নেতৃত্ব ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিই পারে মাদকমুক্ত সমাজ নিশ্চিত করতে। মাদক নির্মূলে সরকার ও প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও এই সামাজিক যুদ্ধে শামিল হতে হবে।”

উপসংহার:
একটি সুন্দর ও সুস্থ জাতি গঠনের লক্ষ্যে সেমিনার শেষে উপস্থিত সকলে সম্মিলিত শপথ গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে এক বলিষ্ঠ প্রত্যয় নিয়ে— “মাদককে না বলুন, সুস্থ জীবনের পথে চলুন।”