শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০১:০৯ অপরাহ্ন

News Headline :
প্রায় ২৪ ঘণ্টা শূন্যরেখায় থাকার পর উদ্ধার বৃদ্ধার পরিবারের কাছে হস্তান্তর- জামালপুরে পুলিশের বিশেষ অভিযান: ১১০ বোতল ভারতীয় মদ, মোটরসাইকেল উদ্ধার; ইয়াবাসহ আটক ২- জামালপুরে রেলওয়ে পুলিশের অভিযানে টিকিট কালোবাজারির অভিযোগে ২ জন গ্রেপ্তার- জামালপুর সদরে ২৫ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক- জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে জামালপুরে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল- জামালপুরে কলেজ পুকুরে গোসলে নেমে ডুবে মৃত্যু বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর- মেলান্দহে জমি-সংক্রান্ত বিরোধে হামলার অভিযোগ, আহত ৪ – কম্বাইন্ড হিউম্যান রাইটস ওয়ার্ল্ড জামালপুর জেলা শাখার আয়োজনে ৮নং ওয়ার্ডে মানবাধিকারভিত্তিক নাগরিক বৈঠক- জামালপুরে জুয়ার আসরে ডিবির অভিযানে ১০ জুয়ারী আটক; তাস ও নগদ টাকা উদ্ধার- জামালপুরে বোরো ধান ও চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু, কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতের আশ্বাস- 

অনতিবিলম্বে এটিএম আজহারুল ইসলামের মুক্তি দিতে হবে – মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।

হুসাইন বিন আফতাব, শ্যামনগর উপজেলা সংবাদদাতা:

 

সাতক্ষীরার উপকূলীয় জনপদ শ্যামনগরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিশাল কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৩শে ফেব্রুয়ারি রবিবারের এই কর্মী সমাবেশ জনসমুদ্রে পরিণত হয়, যেখানে সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে হাজারো নেতাকর্মী সমাবেশস্থলে আসতে থাকে।

 

সকাল ৯টা থেকে শুরু হয় মহিলা কর্মী সম্মেলন, যেখানে উপকূলীয় শ্যামনগরের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে হাজার হাজার নারী কর্মী উপস্থিত হন। তারা জামায়াতের আদর্শ ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে নিজেদের আরও বেশি সম্পৃক্ত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

 

দুপুরের পর থেকে বাঁধভাঙা জোয়ারের মতো নেতা-কর্মীদের ঢল নামে, যা সমাবেশকে এক অভূতপূর্ব জনসমুদ্রে পরিণত করে। বিকাল পর্যন্ত চলা এই সমাবেশে পুরো এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।

 

উপজেলা সেক্রেটারি মাওঃ গোলাম মোস্তফার সঞ্চালনায় ও উপজেলা আমীর মাওলানা আবদুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, “বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বাংলাদেশের মানুষ তাদের মনের কথা প্রকাশ করতে পারেনি। এমনকি তিন-চারজন একসাথে বসলেও তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হতো। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নানান ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। শেখ হাসিনা, ফখরুদ্দিন-মইনুদ্দিন ও ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সমঝোতার মাধ্যমে নির্বাচনের নামে প্রহসন করা হয়। সরকার গঠনের পর তাদের প্রধান এজেন্ডা ছিল জামায়াতে ইসলামীকে নিশ্চিহ্ন করা। শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, শহীদ আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদী, শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লাসহ ১১ জন কেন্দ্রীয় নেতাকে বিনা অপরাধে ফাঁসি ও বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়াও জামায়াত ও শিবিরের অসংখ্য নেতা-কর্মীকে মিথ্যা মামলায় বছরের পর বছর কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছে। কিন্তু তারা ভুলে গেছে, ইসলামী আন্দোলনকে নির্মূল করা সম্ভব নয়। আজকের এই বিশাল সমাবেশ তারই প্রমাণ।”

 

তিনি আরও বলেন, “শেখ হাসিনা জামায়াতের এই আন্দোলন নির্মূল করতে চেয়েছিলেন, জামায়াতকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু আজ জনগনের কাছে নিষিদ্ধ হয়ে গেছেন। আমরা সরকারকে আহ্বান জানাই, হেফাজতে ইসলামের শাপলা চত্বরে ঘুমন্ত আলেমদের ওপর নির্মম গুলি চালানো ও হত্যাকাণ্ডের সাথে যারা জড়িত, তাদের বিচার করতে হবে। ক্ষমতায় আসার পর পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের নামে ষড়যন্ত্র করে সেনাবাহিনীর চৌকস কর্মকর্তাদের হত্যা করা হয়েছে, কিন্তু প্রকৃত খুনিরা আজও ধরা পড়েনি। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাই, প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।”

 

তিনি আরও বলেন, “বিভিন্ন মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত অনেকেই মুক্তি পেয়ে গেছেন, অথচ আমাদের প্রাণপ্রিয় নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম এখনও মুক্তি পাননি। তাকে অনতিবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে, ফ্যাসিবাদের দোসরদের বিচার করতে হবে। বাংলার জনগণ আর কোনো নব্য ফ্যাসিবাদ মেনে নেবে না। সরকারকে আহবান জানাবো শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর, আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার এবং বিদেশে পাচারকৃত অর্থ ফেরত এনে অর্থনীতি সচল করার।”

 

সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্যাহ, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ড. মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানী, জেলা আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, সাবেক এমপি গাজী নজরুল ইসলাম, জেলা সেক্রেটারি আজিজুর রহমান, জেলা নায়েবে আমীর শেখ নুরুল হুদা, জেলা সহকারী সেক্রেটারি মাহবুবুল আলম, জেলা সহকারী সেক্রেটারি প্রভাষক ওমর ফারুকসহ কেন্দ্রীয়, জেলা ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। তারা সবাই জামায়াতের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য ও কর্মপন্থা তুলে ধরেন এবং সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার আহ্বান জানান।

 

নেতৃবৃন্দ শ্যামনগর উপজেলার উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরে সরকারের কাছে তা বাস্তবায়নের দাবি জানান। তারা বলেন, “শ্যামনগরের অবহেলিত জনগণের উন্নয়নে সরকারকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এই অঞ্চলকে মডেল উপজেলায় রূপান্তর করার জন্য জামায়াত নিরলসভাবে কাজ করে যাবে।”

 

নেতারা আশা প্রকাশ করেন, এই কর্মী সম্মেলনের মাধ্যমে দলের কর্মীরা নতুন উদ্দীপনায় কাজ করতে অনুপ্রাণিত হবেন। হাজার হাজার কর্মীর সরব উপস্থিতি ও উদ্দীপনা দেখে তারা অত্যন্ত আশাবাদী যে, সংগঠনের সাংগঠনিক কাঠামো আরও শক্তিশালী হবে এবং জনগণের পাশে থেকে তাদের অধিকার আদায়ে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।



পুরানো খবর

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১৩
১৫১৬১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭
৩০